জানুয়ারি 28, 2026

আক্কেলপুর অটোর দখলে হারাচ্ছে প্যাডেল রিকশার ঐতিহ্য

ডিসেম্বর 25, 2025

বিডিনিউজ ডেক্স : এক সময় শহর ও গ্রামের অলিগলিতে মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল প্যাডেল চালিত রিকশা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রিকশাচালকরা ঘুরিয়ে যেতেন জীবনের চাকা, আর তাদের ঘণ্টির ‘ক্রিং ক্রিং’ শব্দে মুখর থাকত পথঘাট। এই রিকশাই ছিল নিম্ন আয়ের অসংখ্য পরিবারের জীবিকার উৎস।

কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই প্যাডেল রিকশা হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোর দখলে। নিঃশব্দে বিলীন হচ্ছে এক সময়ের প্রাণচঞ্চল ঐতিহ্য, রেখে যাচ্ছে কেবল স্মৃতির শব্দ—‘ক্রিং… ক্রিং…’জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের অলিগলিতে একসময় সকাল-বিকেল ভেসে আসত রিকশার ঘণ্টির সুর। কিন্তু এখন সে দৃশ্য প্রায় বিরল। ব্যাটারিচালিত অটোর দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন সেই বাহন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিকার ধরন যেমন বদলেছে, তেমনি পাল্টেছে পরিবহন সংস্কৃতিও।

প্যাডেল রিকশায় পরিশ্রম বেশি হলেও আয় তুলনামূলক কম। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কম শ্রমে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় চালকদের বড় একটি অংশ পেশা বদলেছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই এখন দেখা যায় অটোরিকশার সারি, যা যাত্রীদের কাছেও দ্রুত ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

৬৫ বছর বয়সী রিকশাচালক রহিম উদ্দিন বলেন, ‘বাবা, অটো কিনতে টাকা লাগে, আমি গরিব মানুষ। এই রিকশাটাই আমার ভরসা। আগে যাত্রী তুলতাম, এখন আইসক্রিম বেচে খাই। দিনে যা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। এখন মানুষ হাঁটতেও চায় না, সবাই অটোতে ওঠে।’

চোখের কোণে বিষাদ লুকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘণ্টির শব্দেই কেটেছে আমার জীবন। এখন সবাই বলে, ‘দাদু, এইটা চালাও কেন?’ কিন্তু আমি ফেলে দিতে পারি না, এটা তো আমার সঙ্গী।’

একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

একই কণ্ঠে আক্ষেপ করলেন প্যাডেল রিকশার চালক আজিজার রহমান। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন আর প্যাডেল রিকশায় উঠতে চায় না। তাই বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়। আগে দিনে ২০০-৩০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৮০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে। এত অল্প আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর।’

অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মোহন আলী জানান, ‘রিকশায় খাটুনি অনেক, আয় কম। কিন্তু অটোরিকশা চালিয়ে দিনে ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। কিস্তিতে পাওয়া যায় বলেও অনেকে সহজেই নিচ্ছে।’

জয়পুরহাটে বর্তমানে প্রায় ২৩টি কারখানায় প্রতি মাসে গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরি হচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। রড, শিট ও ব্যাটারির দাম দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

স্থানীয় কারখানা মালিক আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘একটি অটোরিকশার বডি তৈরিতে খরচ পড়ে অন্তত ৮০ হাজার টাকা। ব্যাটারি ও মোটরসহ সম্পূর্ণ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও ঋণ নিয়ে কাজ করেন, কারণ ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন।’

জয়পুরহাট বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ জানান, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাহিদা বাড়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় সহায়তা দিতে বিসিক উদ্যোগ নিচ্ছে।’

কয়েক বছর আগেও আক্কেলপুর শহরে ৫০টির বেশি কারখানায় রিকশা তৈরি হতো। মাসে প্রায় ২ কোটি টাকার রিকশা বিক্রি হতো। এখন হাতে গোনা মাত্র তিনটি প্যাডেল রিকশা দেখা যায়, আর তাদের চালকরাও বয়সে প্রবীণ।

যে বাহন একসময় শহর ও গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরতা ছিল, তা এখন অতীত হতে চলেছে। প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছে এক প্রজন্মের ঘাম-ঝরা শ্রমের স্মৃতি।

সময়ের সঙ্গে হয়তো প্যাডেল রিকশা একদিন হারিয়ে যাবে পুরোপুরি, রয়ে যাবে শুধু ইতিহাসের পাতায় কিংবা জাদুঘরের প্রদর্শনীতে—যেখানে কেউ থমকে দাঁড়িয়ে হয়তো আবার শুনতে পাবে সেই চেনা সুর,‘ক্রিং… ক্রিং…’

M

টপিক :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরো দেখুন