জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’। কালের বির্বতনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই খেলাটি। তাই এই খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এমন আয়োজন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ) বিকালে উপজেলার পীরপাল গ্রামে এই খেলাটির উদ্বোধন করা হয়। খেলায় ৫ জন পাতা অংশ নেন এবং ৪টি গ্রুপের ২০ জন তান্ত্রিক দল অংশ নেয়।ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন সব বয়সের মানুষ। তবে খেলাটি প্রতি বছর ও বড় পরিসরে করার দাবী দর্শনার্থীদের। তবে আগামীতে সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে খেলাটি করার ইচ্ছে আয়োজকদের।
কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে প্রাচীন বাংলার খেলাধুলা। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছিত পাতা খেলা নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অচেনা। তাই তাদের নতুন করে পরিচয় করে দেবার জন্য আয়োজন করেছে পীরপাল গ্রামের যুবসমাজ। খেলাটি চলে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত।
মাঠের চারপাশে মন্ত্র পড়ছে কিছু মানুষ। তান্ত্রিক দল মন্ত্র দিয়ে মানুষরূপী পাতাকে মাঠের মাঝখান থেকে নিজের দিকে টানার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। যে দল তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে পাতাকে নিজের জায়গার মধ্যে নিয়ে আসতে পারবে সেই বিজয়ী। প্রতিযোগিতায় যাদের পয়েন্ট বেশি সেই দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
খেলোয়াড়রা বলেন, এই খেলায় মন্ত্রবিদরা যেমন আনন্দিত তেমনি আনন্দিত খেলোয়াড়রা যা ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখাতে পেরে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। তারা চান মাঝে মধ্যেই যেন এ বিনোদন খেলাটি মানুষেরা উপভোগ করতে পারেন। কোনো পুরস্কারের আশায় নয় খেলাটি খেলতে এসেছের দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য।এদিকে আয়োজকরা বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরা ও নতুনদেরকে এই খেলার সাথে পরিচয় করার জন্য এই খেলার আয়োজন। খেলাটি নিজেদের অর্থায়নে করা। যদি সরকার কিংবা জনপতিনিধিরা একটু সাহায্য করেন তাহলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।খেলায় ৩ টি টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন উপজেলার আটটুল গ্রামের তান্ত্রিক দল । খেলা শেষে চ্যাম্পিয়নকে রাজহাঁস ও রার্নাস আপকে পাতী হাঁস পুরস্কৃত করা হয়।
M