আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। এনিয়ে বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গনের সুর বাজতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারে শেখ সুজাত মিয়া বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. রেজা কিবরিয়া’কে নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলের কার্যালয়ে আমার সাথে সমঝোতায় বসবেন। কিন্তু সকাল থেকে অপেক্ষা করার পরও তিনি বা তার কোন প্রতিনিধি নির্ধারিত সময়ে না আসায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। তিনি সন্ধ্যা ৬ টায় দলীয় কার্যালয় গোল্ডেন প্লাজায় আসেন এবং উনার কথা বার্তায় উপস্থিত দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। ফলে কোন সমঝোতা হয়নি।
এদিকে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া দলীয় নেতাকর্মীসহ সন্ধ্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার সাথে স্বাক্ষাত করতে দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের’কে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে বিদায় নেন। এর আগে বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী, নবনির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি বয়েত উল্লা, সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান মজিদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি শেখ সুজাত মিয়ার মিটিংয়ে উপস্থিত হন। তবে ওই মিটিংয়ে তাদেরকে কোন কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। বরং ভুয়া ভুয়া শ্লোগান দেয়ায় তারা বের হয়ে আসেন। ফলে হবিগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠে নতুন সমিকরণ দেখা দিয়েছে। লড়াই হচ্ছে দ্বিমূখী। এদিকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করায় দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী তাদের প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী’কে প্রার্থী হিসেবে বহাল রাখার দাবিতে প্রায় দুই ঘন্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আউশকান্দি এলাকায় অবরোধ ও প্রার্থীকে মহাসড়কে আটকে রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বিকাল ৪টার দিকে অবরোধ থেকে প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলীকে মুক্ত করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্য্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল ৫টার ১ মিনিট পূর্বে হবিগঞ্জ রিটানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে প্রস্তাবকারী ও সর্মথনকারীসহ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। নবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আশরাফ আলী জানান, প্রার্থীতা বহাল রাখার দাবীতে কিছু নেতাকর্মী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে জামায়াতের প্রার্থীকে আটকে রাখে, পরে আমরা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে তাকে অবরোধ মুক্ত করা হয়। এরপর তিনি দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা রির্টানিং অফিসারের কার্য্যালয়ে পৌছে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, আমি দলের প্রতি অনুগত্য স্বীকার করে বড় ধরনে ত্যাগ শিকার করেছি। কারন সব ধরনের জনমত জরিপে আমি এগিয়ে ছিলাম তবুও দলের নির্দেশ মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি। উল্লেখ্য যে হবিগঞ্জ-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরীকে জোট প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করা হয়েছে।